
নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক মো. সাইদুজ্জামানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ, বদলির সুপারিশ এবং পরবর্তীতে বারবার বদলির আদেশ বাতিলের ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।সিভিল সার্জন, খুলনা ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)-এর কাছে পাঠানো এক পত্রে তাকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসক, নার্সিং কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের মধ্যে ছিল অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অসৌজন্যমূলক আচরণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, নারী কর্মচারীদের সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ এবং দাপ্তরিক কাজে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সাল থেকে তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগের পর বদলির আদেশ হলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে ২০২৪ সালের জুনে বদলি কার্যকর হয় এবং ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি আবার বটিয়াঘাটায় যোগদান করেন। এরপর ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয় এবং ৬ মে তিনি সেখানে যোগ দেন। তবে মাত্র ১৩ দিন পর, ১৯ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেই বদলির আদেশ বাতিল করে।একাধিক অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লিখিত আবেদন এবং সিভিল সার্জনের সুপারিশ থাকার পরও বারবার বদলির আদেশ বাতিল হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ (স্বাস্থ্য)-এর উপজেলা সভাপতি এবং জেলা শাখার প্রভাবশালী নেতা ছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।তবে মো. সাইদুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কখনো বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শাখার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ছিলাম না। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো: ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তার সব কাজেই ঝামেলা। কোন কিছু ঠিকঠাক মতো করতে পারে না। তাকে নিয়ে হাসপাতালে চরম বিতর্ক। আমরাও আছি নানাবিধ সমস্যায়। জানিনা বদলির পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার কেন এখানে পাঠায়? এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
